ক্যারিবীয় অঞ্চলজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে **হারিকেন ‘মেলিসা’**কে ঘিরে। চলতি বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়টি এখন ক্যাটাগরি-৫ মাত্রায় পৌঁছেছে এবং সরাসরি জ্যামাইকার দিকে ধেয়ে আসছে। মার্কিন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ঝড় আঘাত হানলে তা জ্যামাইকার ইতিহাসে রেকর্ডভুক্ত সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হতে পারে।
মার্কিন ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) জানিয়েছে, ঘণ্টায় ১৭৫ মাইল (২৮২ কিলোমিটার) বেগে বইছে বাতাস, যা ঘূর্ণিঝড়টিকে ক্যাটাগরি ৫ বা সর্বোচ্চ মাত্রার হারিকেনে পরিণত করেছে। বর্তমানে মেলিসা রাজধানী কিংস্টন থেকে প্রায় ১৪৫ মাইল (২৩৩ কিলোমিটার) দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে এবং ঘণ্টায় মাত্র ৩ মাইল (৯ কিলোমিটার) গতিতে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোরের দিকে হারিকেনটি জ্যামাইকায় আঘাত হানতে পারে। এর প্রভাবে দ্বীপটির কিছু এলাকায় ৪০ ইঞ্চি (১০০ সেন্টিমিটার) পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে, যা মারাত্মক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ইতোমধ্যে হাইতি, ডোমিনিকান রিপাবলিক ও জ্যামাইকা মিলিয়ে অন্তত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে জ্যামাইকায় তিনজন, হাইতিতে চারজন এবং ডোমিনিকান রিপাবলিকে একজন নিহত হয়েছেন। ডোমিনিকান রিপাবলিকের একটি এলাকায় ১৩ বছর বয়সী এক শিশু এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
জ্যামাইকার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হলনেস ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দ্রুত লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সরকার ৮৮১টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করেছে।
এনএইচসি পরিচালক মাইকেল ব্রেনান সতর্ক করে বলেছেন, “এই অঞ্চলের কোনো অবকাঠামোই ক্যাটাগরি ফাইভের ঝড় সহ্য করার মতো নয়। মানুষকে ঘরের ভিতরে থাকতে হবে এবং ঘূর্ণিঝড়ের ‘চোখ’ অতিক্রমের সময় বাইরে বের হওয়া বিপজ্জনক।”
আবহাওয়াবিদদের মতে, ১৮৫১ সালে রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর থেকে এটি হতে পারে জ্যামাইকার ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়।
নিউজ ডেস্ক 









