স্বাস্থ্য ডেস্ক:
উচ্চ রক্তচাপ এখন এক নীরব ঘাতক। অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকসহ নানা জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়। তবে প্রকৃতিতে এমন কিছু পানীয় আছে, যেগুলোর অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, পলিফেনল ও নাইট্রেট উপাদান রক্তনালি শিথিল করে, প্রদাহ কমায় এবং সার্বিকভাবে হৃদ্যন্ত্রকে রাখে সুস্থ। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে ঘুমানোর আগে নিচের পানীয়গুলো নিয়মিত পান করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।
১. গ্রিন টি
গ্রিন টির অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট ‘ক্যাটেচিন’ রক্তনালির কার্যকারিতা উন্নত করে ও প্রদাহ কমায়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত গ্রিন টি পান করলে সিস্টোলিক চাপ গড়ে ২ mmHg এবং ডায়াস্টোলিক চাপ প্রায় ১.৭ mmHg পর্যন্ত কমতে পারে।
এতে থাকা এল–থিয়ানিন মানসিক চাপ কমাতেও সাহায্য করে। তবে যাদের ঘুমের সমস্যা আছে, তারা ক্যাফেইনমুক্ত গ্রিন টি বেছে নিতে পারেন।
২. জবা ফুলের চা
জবা ফুলের পাপড়ি থেকে তৈরি চা রক্তচাপ কমাতে কার্যকর। এতে থাকা অ্যান্থোসায়ানিন ও পলিফেনল রক্তনালি প্রসারিত করে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে।
এটি ক্যাফেইনমুক্ত হওয়ায় রাতে ঘুমানোর আগে পান করা নিরাপদ ও উপকারী। একই সঙ্গে এটি শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলও কমাতে সাহায্য করে।
৩. বিটের জুস
বিটের জুসে থাকা প্রাকৃতিক নাইট্রেট শরীরে নাইট্রিক অক্সাইডে রূপান্তরিত হয়, যা রক্তনালি শিথিল ও প্রশস্ত করে রক্তচাপ কমায়।
চিনি ছাড়া ঘরে তৈরি তাজা বিটের জুস পান করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত একটি পানীয়।
৪. ডালিমের রস
ডালিমের রসে আছে প্রচুর অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট ও পলিফেনল, যা রক্তনালির আস্তরণ (এন্ডোথেলিয়াম) মজবুত রাখে। এটি শরীরে নাইট্রিক অক্সাইডের পরিমাণ বাড়িয়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং কোষের ক্ষয় কমায়।
তবে ডালিমে প্রাকৃতিক চিনি থাকায় অতিরিক্ত নয়, বরং পরিমিত পরিমাণে এবং চিনি ছাড়া রস পান করাই ভালো।
৫. ওট মিল্ক
ওট মিল্ক একধরনের উদ্ভিজ্জ পানীয়, যা সরাসরি না হলেও পরোক্ষভাবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এতে থাকা বিটা–গ্লুকান নামের দ্রবণীয় ফাইবার কোলেস্টেরল কমায় এবং হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে।
রাতে হালকা গরম ওট মিল্ক পান করলে ঘুমও ভালো হয় এবং শরীর শান্ত থাকে।
মনে রাখবেন
এই পানীয়গুলো কোনো জাদুকরী সমাধান নয়—বরং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ। সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার পাশাপাশি এসব প্রাকৃতিক উপাদান উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
নিজের শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র: হেলথলাইন
নিউজ ডেস্ক 














