Dhaka ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গ্যাস সিলিন্ডারের চরম সংকট: ১৩০০ টাকার সিলিন্ডার নেই, ২২০০ টাকায়ও দুর্মিল্য

  • নিউজ ডেস্ক
  • সংবাদ আপডেট এর সময় : ১১:২৩:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩৯ জন দেখেছেন

 

রাজধানীসহ সারাদেশের বাজারে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে; যেখানে সরকারি নির্ধারিত ১,৩০৬ টাকার সিলিন্ডার মিলছে না, আবার বাজারে পেলে ২,০০০–২,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা এই সংকটের ফলে প্রতিদিনই ভোগান্তির মুখে পড়ছেন।


বাজারে গ্যাস সিলিন্ডার নেই, দাম বাড়ছে

সরকার ও কর্তৃপক্ষ বারবার নিশ্চয়তা দিলেও বাস্তবে বাজারে এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। গত ৪ জানুয়ারি এলপিজির দাম হালনাগাদ করে ১,৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হলেও সিলিন্ডার সরবরাহ কম হওয়ায় গ্রাহকরা সেটি খুঁজে পাচ্ছেন না। যারা পেলেন, তারা দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ২,০০০ থেকে ২,২০০ টাকার মধ্যে

প্রতিদিনের জীবন ও রান্নাঘরে প্রভাব

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস না থাকায় বেসরকারি চাকরিজীবী ও গৃহিণীরা রান্নার কাজে স্বাভাবিক গ্যাসের পরিবর্তে এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও সেটি এখন সংকটে ভুগছে। অনেকের নাইট গ্যাস না থাকায় অনেকে হোটেল থেকে খাবার কিনে নিজ বাড়িতে আনছেন, যা তাদের দৈনন্দিন ব্যয় বৃদ্ধি করতে বাধ্য করছে।

ইলেকট্রিক চুলার চাহিদা বাড়ছে

এই সংকটে বৈদ্যুতিক বা ইলেকট্রিক চুলার চাহিদা বেড়েছে। বাজারে ইলেকট্রিক চুলার দাম প্রায় ২,৫০০ থেকে ৮,০০০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতারা বলছেন, রান্নার খরচ কম হওয়ায় অনেক গ্রাহক এই প্রযুক্তিকে উপসংহারে বেছে নিচ্ছেন।

ব্যবসায়ীদের দুঃখ ও পরিস্থিতি

বর্তমানে প্রায় ২৮টি প্রতিষ্ঠান এলপিজি বিক্রয় করার দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও মাত্র ৪–৫টি কোম্পানি গ্রাহকদের সরবরাহ চালিয়ে আসছে। অনেক দোকানেই সিলিন্ডার নেই, আর যারা পরীক্ষা করে বিক্রি করছেন তারা চড়া দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ। অনেক স্থানীয় ব্যবসায়ী গ্যাস না পেয়ে দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


 বক্তব্য/উদ্ধৃতি

একটি গ্রাহক জানালেন:

“বাজারে সিলিন্ডার নেই, যেখানে আছে সেখানেও দাম অনেক বেশি। গ্যাসের সংকটের কারণে দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা বেড়ে গেছে।” — জান্নাতুল ফেরদৌস

এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতির কাছের এক ডিস্ট্রিবিউটর বললেন:

“কোম্পানি থেকে সরবরাহ কম হওয়ায় আমাদের কাছে গ্যাস অনেক কম আসছে। পরিস্থিতি সাময়িক হলেও দ্রুত সমাধান না হলে সংকট গাঢ় হবে।”

বিইআরসি সদস্য (গ্যাস) মিজানুর রহমান বলেন:

“রমজানের মধ্যে পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে এবং আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ চলছে।”


প্রেক্ষাপট/ব্যাকগ্রাউন্ড

দেশে শীতকালে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাচ্ছে এবং পাইপলাইনের চাপ কমে আসায় মানুষের দৈনন্দিন রান্নায় গ্যাসের প্রভাব বেড়েছে। এ সময় এলপিজির ব্যবহার আরও বাড়ে, কিন্তু সরবরাহ ঘাটতির কারণে বাজারে সিলিন্ডারের অভাব দেখা দিয়েছে। এর ফলে ক্রেতারা বাধ্য হয়ে বাজার মূল্যেও গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। (dhakapost.com)

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতীয়দের ট্যুরিস্ট ভিসা সীমিত করল বাংলাদেশ

গ্যাস সিলিন্ডারের চরম সংকট: ১৩০০ টাকার সিলিন্ডার নেই, ২২০০ টাকায়ও দুর্মিল্য

সংবাদ আপডেট এর সময় : ১১:২৩:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

 

রাজধানীসহ সারাদেশের বাজারে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে; যেখানে সরকারি নির্ধারিত ১,৩০৬ টাকার সিলিন্ডার মিলছে না, আবার বাজারে পেলে ২,০০০–২,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা এই সংকটের ফলে প্রতিদিনই ভোগান্তির মুখে পড়ছেন।


বাজারে গ্যাস সিলিন্ডার নেই, দাম বাড়ছে

সরকার ও কর্তৃপক্ষ বারবার নিশ্চয়তা দিলেও বাস্তবে বাজারে এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। গত ৪ জানুয়ারি এলপিজির দাম হালনাগাদ করে ১,৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হলেও সিলিন্ডার সরবরাহ কম হওয়ায় গ্রাহকরা সেটি খুঁজে পাচ্ছেন না। যারা পেলেন, তারা দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ২,০০০ থেকে ২,২০০ টাকার মধ্যে

প্রতিদিনের জীবন ও রান্নাঘরে প্রভাব

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস না থাকায় বেসরকারি চাকরিজীবী ও গৃহিণীরা রান্নার কাজে স্বাভাবিক গ্যাসের পরিবর্তে এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও সেটি এখন সংকটে ভুগছে। অনেকের নাইট গ্যাস না থাকায় অনেকে হোটেল থেকে খাবার কিনে নিজ বাড়িতে আনছেন, যা তাদের দৈনন্দিন ব্যয় বৃদ্ধি করতে বাধ্য করছে।

ইলেকট্রিক চুলার চাহিদা বাড়ছে

এই সংকটে বৈদ্যুতিক বা ইলেকট্রিক চুলার চাহিদা বেড়েছে। বাজারে ইলেকট্রিক চুলার দাম প্রায় ২,৫০০ থেকে ৮,০০০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতারা বলছেন, রান্নার খরচ কম হওয়ায় অনেক গ্রাহক এই প্রযুক্তিকে উপসংহারে বেছে নিচ্ছেন।

ব্যবসায়ীদের দুঃখ ও পরিস্থিতি

বর্তমানে প্রায় ২৮টি প্রতিষ্ঠান এলপিজি বিক্রয় করার দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও মাত্র ৪–৫টি কোম্পানি গ্রাহকদের সরবরাহ চালিয়ে আসছে। অনেক দোকানেই সিলিন্ডার নেই, আর যারা পরীক্ষা করে বিক্রি করছেন তারা চড়া দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ। অনেক স্থানীয় ব্যবসায়ী গ্যাস না পেয়ে দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


 বক্তব্য/উদ্ধৃতি

একটি গ্রাহক জানালেন:

“বাজারে সিলিন্ডার নেই, যেখানে আছে সেখানেও দাম অনেক বেশি। গ্যাসের সংকটের কারণে দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা বেড়ে গেছে।” — জান্নাতুল ফেরদৌস

এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতির কাছের এক ডিস্ট্রিবিউটর বললেন:

“কোম্পানি থেকে সরবরাহ কম হওয়ায় আমাদের কাছে গ্যাস অনেক কম আসছে। পরিস্থিতি সাময়িক হলেও দ্রুত সমাধান না হলে সংকট গাঢ় হবে।”

বিইআরসি সদস্য (গ্যাস) মিজানুর রহমান বলেন:

“রমজানের মধ্যে পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে এবং আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ চলছে।”


প্রেক্ষাপট/ব্যাকগ্রাউন্ড

দেশে শীতকালে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাচ্ছে এবং পাইপলাইনের চাপ কমে আসায় মানুষের দৈনন্দিন রান্নায় গ্যাসের প্রভাব বেড়েছে। এ সময় এলপিজির ব্যবহার আরও বাড়ে, কিন্তু সরবরাহ ঘাটতির কারণে বাজারে সিলিন্ডারের অভাব দেখা দিয়েছে। এর ফলে ক্রেতারা বাধ্য হয়ে বাজার মূল্যেও গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। (dhakapost.com)