লন্ডনের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি আবারও আলোচনায়
লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত পপলার–অ্যান্ড–লাইমহাউস এলাকার সংসদ সদস্য আপসানা বেগম আবারও নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে। অভিযোগ উঠেছে—উচ্চ আয় থাকা সত্ত্বেও তিনি এখনও কাউন্সিলের ঘরে থাকছেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় রাজনীতি ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী অভিযোগ করেন—
“এলাকার হাজারো মানুষ সরকারি ঘরের অপেক্ষায়; গৃহহীনতা বেড়েছে। অথচ একজন উচ্চ আয়ের এমপি দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ কাউন্সিল হাউসে বসবাস করছেন।”
এই পোস্ট ঘিরে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। অনেকেই আপসানা বেগমের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তার নৈতিকতার প্রশ্ন তোলেন।
সমর্থক বনাম সমালোচক
একদল নাগরিকের মতে, উচ্চ আয়ের জনপ্রতিনিধি হিসেবে সরকারি ঘর ব্যবহার করা অনৈতিক।
অন্যদিকে, সমর্থকরা বলছেন—
“আপসানা বেগম ঘরোয়া নির্যাতনের শিকার ছিলেন। সংখ্যালঘু নারী হিসেবে তিনি কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন। সাধারণ নাগরিক হিসেবে সরকারি সুবিধা নেওয়ায় তার কোনো দোষ নেই।”
রাজনীতি ও ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপট
আপসানা বেগম লেবার পার্টির জনপ্রিয় মুখ। তিনি দলের লন্ডন রিজিয়ন শাখার সদস্য ও টাওয়ার হ্যামলেটস শাখার সহসভাপতি। পাশাপাশি, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের আবাসন বিভাগে কর্মরত আছেন।
চলতি বছর পারিবারিক সহিংসতা নিয়ে সংসদে আবেগঘন বক্তৃতা দিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। সমাজে নির্যাতিত নারীদের পক্ষে তার অবস্থান ব্যাপক প্রশংসিত হয়।
সিলেটের শিকড়
আপসানা বেগমের পারিবারিক শিকড় সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার লুদুরপুর গ্রামে। তাঁর প্রয়াত বাবা মনির উদ্দিন ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটসের সিভিক মেয়র এবং দীর্ঘদিন স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
প্রতিক্রিয়া মেলেনি
আবাসন সংক্রান্ত অভিযোগে আপসানা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি।
নিউজ ডেস্ক 









