Dhaka ০৭:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মনোনয়ন বঞ্চিত আরিফ ঢাকায়, ফিরিয়ে দিলেন বিকল্প প্রস্তাব

  • নিউজ ডেস্ক
  • সংবাদ আপডেট এর সময় : ০১:২৫:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫
  • ৪৮ জন দেখেছেন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে চরম হতাশ সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) সাবেক মেয়র ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী। মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তিনি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাঠে সক্রিয় ছিলেন এবং বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে প্রচারণাও চালাচ্ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছিল, দলের টিকিট তাঁর ঝুলিতেই পড়বে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

সোমবার (৩ নভেম্বর) বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে ১৪টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। এর মধ্যে সিলেট-১ আসনে মুক্তাদিরের নাম ঘোষণার পর থেকেই আরিফুলের অনুসারীদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়ে।

দলের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সকালে আরিফুল হক চৌধুরী ঢাকায় গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি সেখানে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মনোনয়ন বঞ্চনার কারণ জানতে চান।

আরিফুল হক চৌধুরী ছিলেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সিলেট সিটি করপোরেশনের দুই মেয়াদের জনপ্রিয় মেয়র। স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। ফলে সিলেট-১ আসনে তাঁর মনোনয়ন না পাওয়া রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁকে বিকল্প হিসেবে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যেহেতু ওই আসনে এখনো প্রার্থী ঘোষণা হয়নি। তবে আরিফুল সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠদের ভাষ্য, তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—

“আমি সিলেট-১ আসনের রাজনীতির মানুষ, অন্য কোথাও প্রার্থী হব না।”

এদিকে সোমবার রাতে সিলেট নগরীর কুমারপাড়ায় তাঁর বাসায় গিয়ে অনেক নেতা-কর্মী সমবেদনা জানান। তাঁরা দলীয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন। তবে আরিফ তাঁদের বলেন,

“দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, আমি দলের সঙ্গে আছি।”

দলের এক নেতা বলেন, “আরিফুল হক চৌধুরী দলের নিবেদিতপ্রাণ নেতা। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে হয়তো রাজনৈতিক ভারসাম্য ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিলেট-১ আসন বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ আসন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে এখানেই প্রার্থী ছিলেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাঁর পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও কেন্দ্রীয় নেতাদের আস্থার জায়গাটি এবারও তাঁকে এগিয়ে রেখেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতীয়দের ট্যুরিস্ট ভিসা সীমিত করল বাংলাদেশ

মনোনয়ন বঞ্চিত আরিফ ঢাকায়, ফিরিয়ে দিলেন বিকল্প প্রস্তাব

সংবাদ আপডেট এর সময় : ০১:২৫:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে চরম হতাশ সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) সাবেক মেয়র ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী। মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তিনি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাঠে সক্রিয় ছিলেন এবং বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে প্রচারণাও চালাচ্ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছিল, দলের টিকিট তাঁর ঝুলিতেই পড়বে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

সোমবার (৩ নভেম্বর) বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে ১৪টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। এর মধ্যে সিলেট-১ আসনে মুক্তাদিরের নাম ঘোষণার পর থেকেই আরিফুলের অনুসারীদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়ে।

দলের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সকালে আরিফুল হক চৌধুরী ঢাকায় গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি সেখানে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মনোনয়ন বঞ্চনার কারণ জানতে চান।

আরিফুল হক চৌধুরী ছিলেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সিলেট সিটি করপোরেশনের দুই মেয়াদের জনপ্রিয় মেয়র। স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। ফলে সিলেট-১ আসনে তাঁর মনোনয়ন না পাওয়া রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁকে বিকল্প হিসেবে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যেহেতু ওই আসনে এখনো প্রার্থী ঘোষণা হয়নি। তবে আরিফুল সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠদের ভাষ্য, তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—

“আমি সিলেট-১ আসনের রাজনীতির মানুষ, অন্য কোথাও প্রার্থী হব না।”

এদিকে সোমবার রাতে সিলেট নগরীর কুমারপাড়ায় তাঁর বাসায় গিয়ে অনেক নেতা-কর্মী সমবেদনা জানান। তাঁরা দলীয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন। তবে আরিফ তাঁদের বলেন,

“দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, আমি দলের সঙ্গে আছি।”

দলের এক নেতা বলেন, “আরিফুল হক চৌধুরী দলের নিবেদিতপ্রাণ নেতা। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে হয়তো রাজনৈতিক ভারসাম্য ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিলেট-১ আসন বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ আসন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে এখানেই প্রার্থী ছিলেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাঁর পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও কেন্দ্রীয় নেতাদের আস্থার জায়গাটি এবারও তাঁকে এগিয়ে রেখেছে।