Dhaka ০৭:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাতের সিলেটে এখনও সরব চার্জিং স্টেশন

  • নিউজ ডেস্ক
  • সংবাদ আপডেট এর সময় : ১০:২৩:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৪ জন দেখেছেন

সিলেট মহানগরীতে আবারও আলোচনায় এসেছে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের দৌরাত্ম্য। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান, জরিমানা ও নির্দেশনার পরও শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই চলছে এসব রিকশার চলাচল। শুধু তাই নয়, রাতে নিস্তব্ধ নগরীতে গোপনে সক্রিয় শত শত অবৈধ চার্জিং স্টেশন। গলিপথ, দোকানঘর ও গ্যারেজে চলছে চোরাই বিদ্যুতের মাধ্যমে রিকশার ব্যাটারি চার্জের উৎসব। এতে যেমন বাড়ছে লোডশেডিংয়ের চাপ, তেমনি অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন নগরবাসী।

সম্প্রতি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ মহানগরীর ৩৮টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় কাজিটুলা, লালাদিঘিরপাড়, চৌকিদেখী, বাদামবাগিচা, পীর মহল্লা, বাইশটিলা, বড়শালা, এয়ারপোর্ট ও ধোপাগুল এলাকার একাধিক গ্যারেজ ও দোকান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পুলিশ জানায়, চিহ্নিত পয়েন্টগুলোর বিরুদ্ধে সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সহযোগিতায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, এই ৩৮টি পয়েন্টই কেবল দৃশ্যমান অংশ; নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে আরও শতাধিক অবৈধ চার্জিং স্টেশন সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা।

২৪ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় ৩৮টি এবং ২০ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় আরও ১৪টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে প্রশাসন ও পিডিবি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এ সময় ১৩টি বৈদ্যুতিক মিটার, ৭৩টি চার্জিং বক্স ও ১৪ লট সার্ভিস তার জব্দ করা হয়।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) ও মিডিয়া অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন,

“আমরা ধারাবাহিকভাবে অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছি। কেউই আইন অমান্য করে বিদ্যুৎ চুরি বা ঝুঁকিপূর্ণভাবে চার্জিং কার্যক্রম চালাতে পারবে না।”

তিনি আরও বলেন,

“এই চার্জিং পয়েন্টগুলো শুধু বিদ্যুৎ চুরির মাধ্যমে রাষ্ট্রের ক্ষতি করছে না, বরং অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি করছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ:
সিলেট নগরীতে অবৈধ ব্যাটারি চার্জিং স্টেশন যেন প্রশাসনের অভিযানের পরও পুনরায় গজিয়ে উঠছে। এতে শহরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বাড়ছে চাপ এবং নাগরিক নিরাপত্তায় নতুন হুমকি তৈরি হচ্ছে। এবার কঠোর অবস্থান নিয়ে প্রশাসন মাঠে নামলেও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধানের দাবি তুলছে নগরবাসী।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতীয়দের ট্যুরিস্ট ভিসা সীমিত করল বাংলাদেশ

রাতের সিলেটে এখনও সরব চার্জিং স্টেশন

সংবাদ আপডেট এর সময় : ১০:২৩:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

সিলেট মহানগরীতে আবারও আলোচনায় এসেছে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের দৌরাত্ম্য। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান, জরিমানা ও নির্দেশনার পরও শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই চলছে এসব রিকশার চলাচল। শুধু তাই নয়, রাতে নিস্তব্ধ নগরীতে গোপনে সক্রিয় শত শত অবৈধ চার্জিং স্টেশন। গলিপথ, দোকানঘর ও গ্যারেজে চলছে চোরাই বিদ্যুতের মাধ্যমে রিকশার ব্যাটারি চার্জের উৎসব। এতে যেমন বাড়ছে লোডশেডিংয়ের চাপ, তেমনি অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন নগরবাসী।

সম্প্রতি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ মহানগরীর ৩৮টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় কাজিটুলা, লালাদিঘিরপাড়, চৌকিদেখী, বাদামবাগিচা, পীর মহল্লা, বাইশটিলা, বড়শালা, এয়ারপোর্ট ও ধোপাগুল এলাকার একাধিক গ্যারেজ ও দোকান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পুলিশ জানায়, চিহ্নিত পয়েন্টগুলোর বিরুদ্ধে সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সহযোগিতায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, এই ৩৮টি পয়েন্টই কেবল দৃশ্যমান অংশ; নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে আরও শতাধিক অবৈধ চার্জিং স্টেশন সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা।

২৪ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় ৩৮টি এবং ২০ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় আরও ১৪টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে প্রশাসন ও পিডিবি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এ সময় ১৩টি বৈদ্যুতিক মিটার, ৭৩টি চার্জিং বক্স ও ১৪ লট সার্ভিস তার জব্দ করা হয়।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) ও মিডিয়া অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন,

“আমরা ধারাবাহিকভাবে অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছি। কেউই আইন অমান্য করে বিদ্যুৎ চুরি বা ঝুঁকিপূর্ণভাবে চার্জিং কার্যক্রম চালাতে পারবে না।”

তিনি আরও বলেন,

“এই চার্জিং পয়েন্টগুলো শুধু বিদ্যুৎ চুরির মাধ্যমে রাষ্ট্রের ক্ষতি করছে না, বরং অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি করছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ:
সিলেট নগরীতে অবৈধ ব্যাটারি চার্জিং স্টেশন যেন প্রশাসনের অভিযানের পরও পুনরায় গজিয়ে উঠছে। এতে শহরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বাড়ছে চাপ এবং নাগরিক নিরাপত্তায় নতুন হুমকি তৈরি হচ্ছে। এবার কঠোর অবস্থান নিয়ে প্রশাসন মাঠে নামলেও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধানের দাবি তুলছে নগরবাসী।