Dhaka ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে সিলেট-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন

  • নিউজ ডেস্ক
  • সংবাদ আপডেট এর সময় : ১১:৫৩:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩৭ জন দেখেছেন

সিলেটের আলোচিত বিএনপি নেতা ও সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৪ আসনে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বুধবার (৫ নভেম্বর) রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের বাসভবনে বিএনপি চেয়ারপারসন ও ভার্চুয়ালি যুক্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করা হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আরিফুল হক চৌধুরী শুরুতে সিলেট-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু ওই আসনে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মুক্তাদিরকে প্রার্থী করার পর তাকে সিলেট-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার নির্দেশ দেন দলের শীর্ষ নেতারা। বিএনপির হাই কমান্ডের ডাকে সাড়া দিয়ে মঙ্গলবার ঢাকায় যান আরিফুল। একাধিক দফা বৈঠকের পর বুধবার রাতে তাকে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

মনোনয়ন পাওয়ার পর আরিফুল হক চৌধুরী বলেন,

“চেয়ারপারসন আমাদের জাতীয় মুরুব্বী। তার নির্দেশ আমি কখনো অমান্য করিনি, করবোও না। সিলেট-৪ আসনে নির্বাচন করার আদেশ মাথা পেতে মেনে নিয়েছি। সবই আল্লাহর ইচ্ছা।”

আরিফুল হক চৌধুরী ১৯৫৯ সালের ২৩ নভেম্বর সিলেট শহরের কুমারপাড়ার চৌধুরী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মুহাম্মদ শফিকুল হক চৌধুরী এবং মাতা আমিনা বেগম। ছোটবেলা থেকেই সিলেটের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি।

স্থানীয় রাজনীতিতে তার পদচারণা শুরু হয় সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে কমিশনার হিসেবে। পরে উন্নয়ন কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার সময় তিনি আত্মসমর্পণ করেন এবং পরবর্তীতে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির মামলায় জড়ান। তবে ২০১৩ সালে আদালতে তিনি এসব মামলায় খালাস পান।

২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে পরাজিত করে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। পরে ২০১৮ সালেও পুনর্নির্বাচিত হন। মেয়র হিসেবে নগর উন্নয়ন, সড়ক সংস্কার, পানি সরবরাহ ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির নানা প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন তিনি।

২০১৪ সালে শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় তার নাম চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত হলেও পরবর্তীতে আদালতের আদেশে পুনরায় দায়িত্বে ফিরে আসেন।

বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সিলেটেই বসবাস করেন।

দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, সিলেট-৪ আসনে আরিফুল হক চৌধুরীর প্রার্থীতা বিএনপির জন্য নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতীয়দের ট্যুরিস্ট ভিসা সীমিত করল বাংলাদেশ

সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে সিলেট-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন

সংবাদ আপডেট এর সময় : ১১:৫৩:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

সিলেটের আলোচিত বিএনপি নেতা ও সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৪ আসনে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বুধবার (৫ নভেম্বর) রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের বাসভবনে বিএনপি চেয়ারপারসন ও ভার্চুয়ালি যুক্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম ঘোষণা করা হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আরিফুল হক চৌধুরী শুরুতে সিলেট-১ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু ওই আসনে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মুক্তাদিরকে প্রার্থী করার পর তাকে সিলেট-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার নির্দেশ দেন দলের শীর্ষ নেতারা। বিএনপির হাই কমান্ডের ডাকে সাড়া দিয়ে মঙ্গলবার ঢাকায় যান আরিফুল। একাধিক দফা বৈঠকের পর বুধবার রাতে তাকে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

মনোনয়ন পাওয়ার পর আরিফুল হক চৌধুরী বলেন,

“চেয়ারপারসন আমাদের জাতীয় মুরুব্বী। তার নির্দেশ আমি কখনো অমান্য করিনি, করবোও না। সিলেট-৪ আসনে নির্বাচন করার আদেশ মাথা পেতে মেনে নিয়েছি। সবই আল্লাহর ইচ্ছা।”

আরিফুল হক চৌধুরী ১৯৫৯ সালের ২৩ নভেম্বর সিলেট শহরের কুমারপাড়ার চৌধুরী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মুহাম্মদ শফিকুল হক চৌধুরী এবং মাতা আমিনা বেগম। ছোটবেলা থেকেই সিলেটের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি।

স্থানীয় রাজনীতিতে তার পদচারণা শুরু হয় সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে কমিশনার হিসেবে। পরে উন্নয়ন কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার সময় তিনি আত্মসমর্পণ করেন এবং পরবর্তীতে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির মামলায় জড়ান। তবে ২০১৩ সালে আদালতে তিনি এসব মামলায় খালাস পান।

২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে পরাজিত করে তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। পরে ২০১৮ সালেও পুনর্নির্বাচিত হন। মেয়র হিসেবে নগর উন্নয়ন, সড়ক সংস্কার, পানি সরবরাহ ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির নানা প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন তিনি।

২০১৪ সালে শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় তার নাম চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত হলেও পরবর্তীতে আদালতের আদেশে পুনরায় দায়িত্বে ফিরে আসেন।

বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সিলেটেই বসবাস করেন।

দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, সিলেট-৪ আসনে আরিফুল হক চৌধুরীর প্রার্থীতা বিএনপির জন্য নতুন উদ্দীপনা তৈরি করবে।