তরুণ অভিনেতা শাহবাজ সানীর অকাল মৃত্যুর পর নাট্যজগতে সিন্ডিকেট প্রসঙ্গ ফের আলোচনায় এসেছে। তাঁর সহকর্মী ও বন্ধুদের মতে, সানী ছিলেন প্রতিভাবান অভিনেতা, তবে সিন্ডিকেটের কারণে তিনি যথাযথ সুযোগ পাননি।
সানী দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেও নিয়মিত কাজ পাচ্ছিলেন না। কিছু পরিচালকের সঙ্গে কাজ করলেও অনেক সময় কাজ থেকে বাদ পড়তে হতো। অভিনেতা ও নির্মাতারা বলছেন, নাট্যাঙ্গনে সিন্ডিকেট এতটাই প্রকট যে, কেউ নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বাইরে গেলে কাজের সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।
পরিচালক ইমরান রবিন বলেন, “সানী ভালো অভিনেতা ছিল, কিন্তু সিন্ডিকেটের কারণে সে তার প্রতিভার যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি। আজ সবাই প্রশংসা করছে, কিন্তু বেঁচে থাকতে কি সে এতটাই সমাদর পেয়েছিল?”
অন্য পরিচালক আমিনুল শিকদার ও অভিনেতা সিয়াম নাসিরও জানান, শিল্পীদের মৃত্যুর পরই যেন তাঁদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশিত হয়, যা খুবই দুঃখজনক।
সানী সর্বশেষ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন ‘জামাইয়ের মাথা গরম’ নাটকে, যা কথা ছবি ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত হয়। নাটকটির নির্মাতা প্রিন্স রোমান জানান, “সানী সিন্ডিকেটের শিকার ছিল। তাকে প্রধান চরিত্রে সুযোগ দেওয়া হয়নি বললেই চলে। আমরা কয়েকটি নাটক নিয়ে কথা বলছিলাম, তখনই সে অসুস্থ হয়ে পড়ে।”
সানীর কাছের বন্ধু ও পরিচালকরা জানান, অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি খিলক্ষেতে একটি রেস্টুরেন্ট চালু করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু হতাশা ও কাজের অভাবের কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
ঘটনার দিন রাতে উত্তরা মেট্রোরেল স্টেশনের পাশে নাটকের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। সে সময় সানী হঠাৎ প্রচণ্ড কাশি শুরু করেন এবং অচেতন হয়ে পড়ে যান। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সানীর মা অসুস্থ। তিনি ছিলেন দুই ভাইবোনের মধ্যে একজন। আজ বাদ জোহর তাঁর গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে বাবার কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।
পরিচালক ইমরাউল রাফাত জানান, “সানী কোনো স্ট্রাগলার ছিল না, সে প্রকৃত অভিনেতা ছিল। সে রাজকীয়ভাবেই বেঁচেছিল, রাজকীয়ভাবেই বিদায় নিল। আমাদের নাট্যজগতে প্রতিভার কদর থাকা উচিত, যেন আর কোনো শিল্পীকে এভাবে চলে যেতে না হয়।”
নাট্যজগতে সিন্ডিকেটের প্রভাব কতটা ক্ষতিকর, সানীর মৃত্যু তা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। এখন প্রশ্ন থেকে যায়, এর থেকে উত্তরণের কোনো পথ কি খোলা হবে?
নিউজ ডেস্ক 









