সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গড়ে উঠেছে দুর্নীতির এক ভয়ংকর সিন্ডিকেট। অভিযোগ উঠেছে, দুই সিনিয়র স্টাফ নার্স— সোহেল আহমদ ও ইমরান আহমেদ তপাদার—এই সিন্ডিকেটের মূল নিয়ন্ত্রক। তাদের সহযোগিতায় রয়েছেন নার্সিং সুপারভাইজার রাশেদা আক্তার, আইসিইউ ইনচার্জ সাব্বির আহমেদ তপাদারসহ আরও কয়েকজন।
💰 ঘুসের রাজত্ব
হাসপাতালের নার্সদের ডিউটি রোস্টার, ইনচার্জ পদ, আইসিইউ সিট, ট্রেনিং ও টিচিং সেশন—সবকিছুতেই চলছে ঘুস বাণিজ্য। প্রতিটি খাতে নেওয়া হচ্ছে ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুস। টাকা না দিলে নার্সদের লাঞ্ছনা, বঞ্চনা ও মানসিক হেনস্থার শিকার হতে হয়। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেনস্থার শিকারও হয়েছেন।
🎓 ট্রেনিং বাণিজ্য
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর থেকে প্রতি বছর বিশেষায়িত ট্রেনিংয়ের জন্য নাম চাওয়া হয়। কিন্তু সিন্ডিকেটের প্রভাবে যোগ্য নার্সদের বাদ দিয়ে ঘুস নেওয়া ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ট্রেনিং অনুযায়ী ঘুসের হার—
-
৫ দিনের ক্লিনিক্যাল ট্রেনিং: ১,০০০ টাকা
-
১৪ দিনের অভিযোজন ট্রেনিং: ৫,০০০ টাকা
-
২৮ দিনের আইসিইউ/সিসিইউ ট্রেনিং: ১০,000 টাকা
-
কার্ডিয়াক ও নবজাতক সেবা ট্রেনিং: ১০,000 টাকা
-
এক বছরের শিক্ষকতা প্রশিক্ষণ: ১৫,000 টাকা
সোহেল-ইমরান সিন্ডিকেট এভাবে ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক ট্রেনিংয়ের বিনিময়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
🕐 ডিউটি বাণিজ্য
সুবিধাজনক ডিউটি রোস্টার পেতে সিন্ডিকেটকে দিতে হয় প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে তিন দিন সকাল ও তিন দিন বিকাল ডিউটি থাকলেও সিন্ডিকেটকে টাকা দিলে মাসের পর মাস পছন্দমতো সময়ে ডিউটি করা যায়। ফলে সাধারণ নার্সদের ওপর চাপ বাড়ছে।
🏥 আইসিইউ ও ডায়ালাইসিসে ঘুস
আইসিইউ ও ডায়ালাইসিস ইউনিটেও চলছে ঘুসের খেলা। ইমরানের স্বজন সাব্বির আহমেদ আইসিইউ ইনচার্জ হয়ে সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণ করেন। টাকা দিলে দ্রুত সিট পাওয়া যায়।
ডায়ালাইসিস ইউনিটের নিয়ন্ত্রণে থাকা সমীর চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ—ঘুস ছাড়া সময়মতো সেবা মেলে না। এমনকি ড্রাগ মার্কার ডোপ টেস্টের ফলাফলও ঘুসের বিনিময়ে বদলে দেওয়া হয়।
🎙️ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
অভিযোগ অস্বীকার করে সিনিয়র স্টাফ নার্স সোহেল আহমদ বলেন,
“এসব তথ্য মিথ্যা ও বানোয়াট। আওয়ামী লীগের সময় কিছু বক্তব্য দিতে হয়েছিল, কিন্তু কাউকে বসানো আমার দায়িত্ব নয়।”
নার্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যসচিব ইমরান আহমেদ বলেন,
“সিওমেকে কোনো সিন্ডিকেট নেই। যারা বলছেন তারা মিথ্যা তথ্য দিচ্ছেন। আইসিইউ ইনচার্জ নিয়োগে আমার কোনো ভূমিকা ছিল না।”
🩺 প্রশাসনের অবস্থান
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. কামরুজ্জামান জানান,
“সাধারণ নার্সদের কাছ থেকে কিছু অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিউজ ডেস্ক 









