দায়িত্ব গ্রহণের সময় যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেটি এখন বাস্তবে পরিণত হচ্ছে। সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছিলেন— নগরীর কোনো হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপের প্রমাণ মিললেই সেটি সঙ্গে সঙ্গে সিলগালা করা হবে। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে তাঁর সেই ঘোষণাই এখন শহরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কারণ, কথার পরেই এসেছে কার্যকর পদক্ষেপ— একের পর এক ভাঙছে ‘মধুচক্র’।
দীর্ঘদিন ধরে নগরীর বেশ কিছু আবাসিক হোটেল পরিণত হয়েছিল অসামাজিক কর্মকাণ্ডের আখড়ায়। সন্ধ্যা নামলেই অনেক হোটেল রূপ নিত গোপন আস্তানায়, যেখানে তরুণ-তরুণীদের অবাধ যাতায়াত ও অনৈতিক কার্যকলাপ চলত গভীর রাত পর্যন্ত। অভিযোগ ছিল, এসব ব্যবসার আড়ালে গড়ে উঠেছিল দালালচক্র, যাদের ছায়ায় কিছু হোটেল মালিকও জড়িত ছিলেন। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা দীর্ঘদিন ধরে এসবের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকলেও, কার্যকর পদক্ষেপের অভাবেই পরিস্থিতি অপরিবর্তিত ছিল। তবে এবার চিত্রটা বদলাতে শুরু করেছে।
গত মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর তালতলা এলাকার হোটেল বিলাসে অভিযান চালিয়ে পাঁচজন নারী-পুরুষকে আটক করে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযানের পরই হোটেলটি তাৎক্ষণিকভাবে সিলগালা করে সিলেট মহানগর পুলিশ।
এর আগে ১৩ অক্টোবর দক্ষিণ সুরমার সিলেট রেস্ট হাউস একই অভিযোগে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সর্বশেষ এক সপ্তাহে অভিযান চালিয়ে আরও দুটি হোটেল— গ্রান্ড সাওদা হোটেল ও আল সাদী হোটেল সিলগালা করা হয়। এই অভিযানে মোট ১২ জন নারী-পুরুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এসএমপি সূত্র জানায়, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী নগরীর সব হোটেল মালিকদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই তিনি সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন— “যে হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ পাওয়া যাবে, সেটি সিলগালা করা হবে। কেউ রেহাই পাবে না।”
এরপর থেকেই শুরু হয় ধারাবাহিক অভিযান। গোয়েন্দা ও নিয়মিত পুলিশ সদস্যরা মাঠে নেমেছেন। অভিযোগ পেলেই অভিযান, প্রমাণ মিললেই হোটেল বন্ধ— এমন কার্যকর পদক্ষেপেই সন্তুষ্ট নগরবাসী।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) ও মিডিয়া অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন,
“সিলেট মহানগরীতে অসামাজিক কর্মকাণ্ড রোধে আমরা সর্বদা সচেষ্ট। গত সপ্তাহে বিভিন্ন হোটেলে অভিযান চালিয়ে চারটি হোটেল সিলগালা করা হয়েছে এবং ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমরা চাই নগরবাসী নিরাপদ ও নৈতিকভাবে সুরক্ষিত পরিবেশে থাকতে পারে। এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।”
বছরের পর বছর ধরে নগরীর মিরাবাজার, শিবগঞ্জ, কাজলশাহ, আম্বরখানা ও তালতলা এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল তথাকথিত গোপন ‘মধুচক্র’। এখন সেই চক্রের ওপর পড়েছে পুলিশের কঠোর নজর। প্রতিটি অভিযানে স্পষ্ট হচ্ছে কমিশনারের প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপ— অভিযোগ পেলেই অভিযান, প্রমাণ মিললেই সিলগালা।
নিউজ ডেস্ক 









