Dhaka ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাদি হত্যার নির্দেশ সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পীর: ডিবি

  • নিউজ ডেস্ক
  • সংবাদ আপডেট এর সময় : ১২:৪৭:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭৯ জন দেখেছেন

ঢাকা: রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও নির্দেশদাতা হিসেবে মিরপুরের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর নাম উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল শেষে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, হাদি হত্যা মামলায় মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম, তার বোন জেসমিন, আলমগীর ও ফিলিপসহ পাঁচজন এখনও পলাতক রয়েছে। তদন্তে নতুন কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হবে বলেও জানান তিনি।

হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ সম্পর্কে শফিকুল ইসলাম বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে শরিফ ওসমান হাদি ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনামূলক ও জোরালো বক্তব্য দেন। এতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন হাদিকে গুলি করা পলাতক আসামি ফয়সাল করিম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ফয়সাল করিম ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে পালাতে সার্বিক সহায়তা করেন তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী। বাপ্পী পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ মনোনীত নির্বাচিত কাউন্সিলর ছিলেন।

ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও হাদির পূর্ববর্তী বিভিন্ন বক্তব্যের কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

হত্যার পরিকল্পনা ও নির্দেশদাতার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাইজুল ইসলাম বাপ্পীর নির্দেশে ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়।

উদ্ধারকৃত অস্ত্র দিয়েই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে কি না— এমন প্রশ্নে তিনি জানান, উদ্ধারকৃত অস্ত্রের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়েছে এবং ওই অস্ত্র ব্যবহার করেই হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিমের ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভিডিওটির ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়েছে। ভিডিওটি সত্য, তবে ফয়সালের বর্তমান অবস্থান এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভারতে আরও কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়ে ভারতীয় পুলিশের অস্বীকৃতি প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের কাছে তথ্য আছে যে তারা সেখানে গ্রেপ্তার হয়েছিল। তবে বর্তমানে তাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতীয়দের ট্যুরিস্ট ভিসা সীমিত করল বাংলাদেশ

হাদি হত্যার নির্দেশ সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পীর: ডিবি

সংবাদ আপডেট এর সময় : ১২:৪৭:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা: রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও নির্দেশদাতা হিসেবে মিরপুরের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর নাম উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল শেষে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, হাদি হত্যা মামলায় মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম, তার বোন জেসমিন, আলমগীর ও ফিলিপসহ পাঁচজন এখনও পলাতক রয়েছে। তদন্তে নতুন কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হবে বলেও জানান তিনি।

হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ সম্পর্কে শফিকুল ইসলাম বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে শরিফ ওসমান হাদি ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনামূলক ও জোরালো বক্তব্য দেন। এতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন হাদিকে গুলি করা পলাতক আসামি ফয়সাল করিম নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ফয়সাল করিম ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে পালাতে সার্বিক সহায়তা করেন তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী। বাপ্পী পল্লবী থানা যুবলীগের সভাপতি এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ মনোনীত নির্বাচিত কাউন্সিলর ছিলেন।

ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও হাদির পূর্ববর্তী বিভিন্ন বক্তব্যের কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

হত্যার পরিকল্পনা ও নির্দেশদাতার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাইজুল ইসলাম বাপ্পীর নির্দেশে ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়।

উদ্ধারকৃত অস্ত্র দিয়েই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে কি না— এমন প্রশ্নে তিনি জানান, উদ্ধারকৃত অস্ত্রের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়েছে এবং ওই অস্ত্র ব্যবহার করেই হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিমের ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভিডিওটির ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়েছে। ভিডিওটি সত্য, তবে ফয়সালের বর্তমান অবস্থান এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভারতে আরও কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়ে ভারতীয় পুলিশের অস্বীকৃতি প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের কাছে তথ্য আছে যে তারা সেখানে গ্রেপ্তার হয়েছিল। তবে বর্তমানে তাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।